কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ গুলো কি কি? কবিরা গুনাহ মাফের উপায় কি?
কবিরা গুনাহ বলা হয় ঐসকল অপরাধকে যেগুলো খালিস অন্তরে তাওবা না করা ব্যতীত আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করবেন না। কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবগত হওয়া সকল মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক।
কবিরা গুনাহ কি
কবিরা গুনাহ হলো একটি বড় গুনাহ। তাই কবিরা গুনাহ বলতে বড় পাপ বা অপরাধকে বোঝানো হয়। এই পাপগুলো থেকে তওবা না করলে ব্যক্তি আখিরাতে এবং দুনিয়াতেও অনেক বড় শাস্তি পেতে পারে। সগিরা বা ছোট গুনাহগুলো সাধারণত নেক আমলের মাধ্যমে মাপ হয়ে যায় কিন্তু কবিরা গুনাহের জন্য অবশ্যই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করতে হয়।
![]() |
| কবিরা গুনাহ কাকে বলে? কবিরা গুনাহ কি কি? কবিরা গুনাহ মাফের উপায় কি? |
১০১ টি বড় পাপ বা কবিরা গুনাহের তালিকা
১। আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার মনে করা তথা শিরক করা।
২। অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করা।
৩। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ও তাদের কষ্ট দেয়া।
৪। কাউকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
৫। ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
৬। যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। পুরুষে পুরুষে, নারীতে নারীতে মৈথুন করা।
৭। ওজনে কম দেয়া।
৮। দারিদ্রের আশংকায় সন্তান হত্যা করা
৯। কোন মুসলিম সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া।
১০। সুদ খাওয়া ও সুদ দেয়া
১১। জিহাদ তথা যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
১২। যাদু, বান, টোনা করা।
১৩। আমানতের খিয়ানত করা।
১৪। ওয়াদা ভঙ্গ করা।
১৫। মিথ্যা বলা।
১৬। কুরআন মাজিদ শিক্ষা করে তা ভুলে যাওয়া।
১৭। ইচ্ছাকৃত ফরয 'ইবাদাতসমূহ যেমন: নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ছেড়ে দেয়া।
১৮। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা।
১৯। কোন মুসলমানকে কাফির, বেঈমান, আল্লাহর নাফরমান, আল্লাহর দুশমন ইত্যাদি বলা।
২০। চুরি করা।
২১। গিবত করা ও শোনা।
২২। খাদ্যশস্যের দাম বাড়লে খুশি হওয়া।
২৩। কোন বস্তুর দাম সাব্যস্ত হওয়ার পরও জোরপূর্বক দাম কম দেয়া।
২৪। শরাব পান ও মাদকদ্রব্য সেবন করা।
২৫। জুয়া খেলা।
২৬। গাইরে মুহরিম এর নিকট নির্জনে বসা।
২৭। আল্লাহর নিয়ামতের না-শোকরি করা।
২৮। যুলুম-অত্যাচার করা
২৯। আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।
৩০। কারো প্রতি অহেতুক মন্দ ধারণা পোষণ করা।
৩১। অপরের দোষ অনুসন্ধান করা।
৩২। কারো ঘরে অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করা।
৩৩। বিনা ওজরে জুমুয়ার নামায তরক করা।
৩৪। মিথ্যা কসম খাওয়া। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খাওয়া।
৩৫। কাফিরদের রীতিনীতি ও প্রথাকে পছন্দ করা।
৩৬। অশ্লীল নৃত্য-গীতি বা গানবাজনা উপভোগ করা।
৩৭। সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ন্যায় ও সত্যের পথে আহবান না করা ও অন্যায় অসত্য প্রতিরোধে চেষ্টা না করা।
৩৮। মুসলমানের উপর যুলুম করা ও তাকে অপমান করা। ৩৯। কোন পশুর সাথে যৌন অপরাধে লিপ্ত হওয়া।
৪০। শুকরের গোস্ত ভক্ষণ করা।
৪১। কোন হারাম দ্রব্য ভক্ষণ করা।
৪২। আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহকৃত পশুপাখির গোস্ত ভক্ষণ করা।
৪৩। মিথ্যা সাক্ষী দেয়া।
৪৪। জ্যোতিষীদের ভবিষ্যৎ বাণীকে বিশ্বাস করা।
৪৫। গর্ব ও অহংকার করা।
৪৬। ঋতুমতী অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা।
৪৭। সত্য ও ন্যায়ের বিপরীত ফয়সালা দেয়া বা বিচার করা। ৪৮। যালিম ও অত্যাচারীর প্রশংসা করা।
৪৯। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।
৫০। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযের ওয়াক্ত না হওয়া সত্ত্বেও ফরয নামায আদায় করা।
৫১। মুসলমান মুসলমানে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া।
৫২। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) কে মন্দ বলা।
৫৩। ঘুষ খাওয়া।
৫৪। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ বাঁধিয়ে দেয়া।
৫৫। কোন প্রাণীকে আগুণে পুড়িয়ে মারা।
৫৬। কারণ ছাড়াই স্ত্রীর, স্বামী সহবাসে অসম্মত হওয়া।
৫৭। আল্লাহর শাস্তি হতে নির্ভয় থাকা।
৫৮। আলিম, হাফিয ও ক্বারীদের অসম্মান ও অবজ্ঞা করা।
৫৯। স্ত্রীর সাথে যিহার করা।
৬০। বেপরোয়াভাবে বারবার গুনাহে লিপ্ত হওয়া।
অন্যান্য কবিরা গুনাহ সমূহ
এছাড়াও আরোও অনেকগুলো কবিরা গুনাহ রয়েছে। যেমন-
১। পিতা-মাতাকে লা'নত দেয়া।
২। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
৩। আত্মহত্যা করা।
৪। অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করা এবং তা ভক্ষণ করা।
৫। কারো উপকার করে পরবর্তীতে খোটা দেয়া।
৬। মাদকদ্রব্য উৎপাদন এবং প্রচারে অংশগ্রহণ করা।
৭। তাকদিরকে অস্বীকার করা।
৮। অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা।
৯। পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়া।
১০। রসূল (স.) এর নামে মিথ্যা কথা বলা।
১১। মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।
১২। মিথ্যা শপথ করা।
১৩। মিথ্যা শপথের মাধ্যমে কোন জিনিস বিক্রি করা।
১৪। মানুষের গোপন কথা চুপিচুপি শোনার চেষ্টা করা।
১৫। হিল্লা তথা চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করা।
১৬। কারো বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।
১৭। মৃতের জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করে কান্নাকাটি করা।
১৮। মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
১৯। কোন মুসলমানকে গালি দেয়া।
২০। খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু বানানো।
২১। কোন অপরাধীকে আশ্রয়দান।
২২। ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা।
২৩। জমির সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা।
২৪। দাঁত চিকন করা।
২৫। সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে ভ্রু চিকন করা।
২৬। অতিরিক্ত চুল সংযোজন করা।
২৭। পুরুষের জন্য নারীর বেশ-ভূষা ধারণ করা।
২৮। নারীর জন্য পুরুষের বেশ-ভূষা ধারণ করা।
২৯। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।
৩০। পুরুষের জন্য টাকনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা।
৩১। মুসলিম শাসকের সাথে কৃত আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।
৩২। ডাকাতি করা।
৩৩। যুদ্ধলব্দ সম্পদ বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা।
৩৪। স্ত্রীর পায়ুপথে যৌন ক্রিয়া করা।
৩৫। কাউকে অস্ত্রদ্বারা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা।
৩৬। কারো সাথে প্রতারণা করা।
৩৭। রিয়া তথা কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্য কোন সৎকাজ করা।
৩৮। স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরী কোন পাত্র ব্যবহার করা।
৩৯। পুরুষের জন্য রেশমি পোষাক পরিধান এবং স্বর্ণের তৈরী অলংকার ব্যবহার করা।
৪০। নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে গমন করা।
৪১। মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন।
৪২। ভ্রান্ত মতবাদ, জাহেলী রীতি-নীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা।
৪৩। পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা। ৪৪। আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা।
৪৫। বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া।
৪৬। স্বামীর অবাধ্য হওয়া।
৪৭। স্বামীকে অসন্তুষ্ট রাখা।
৪৮। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা।
৪৯। স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা অন্যের নিকট প্রকাশ করা।
৫০। বেশি বেশি অভিশাপ দেয়া।
৫১। বিশ্বাসঘাতকতা করা।
৫২। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
৫৩। ঋণ পরিশোধ না করা।
৫৪। বদমেজাজ এবং অহংকারবশতঃ উপদেশ গ্রহণ না করা।
৫৫। তাবিজ-কবজ, রিং, সূতা ইত্যাদি পরা।
৫৬। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা।
৫৭। ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা।
৫৮। দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা।
৫৯। কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্বেও তা গোপন করা।
৬০। নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।
৬১। আল্লাহর পথে চলতে বাধা সৃষ্টি করা।
কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়
পরবর্তীতে আবারও আপডেট করা হবে ইনশাআল্লাহ।
(সূত্র: দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম-ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা নং-১০৫-১০৭)
