মহানবী সাঃ এর জীবনী সম্পুর্ন বাংলা ভাষায়

 কুরায়শ প্রতিনিধি দলের নূতন দুরভিসন্ধি 

কুরায়শ প্রতিনিধিগণ অকৃতকার্য হয়ে বিমর্ষ বদনে সেদিনকার মত রাজ-সতা পরিত্যাগ করল। পরদিন তারা এক নূতন দুরভিসন্ধি আঁটিয়া রাজ-দরবারে হাজির হয়ে বলল। রাজন, এই নূতন ধর্মালম্বীগণ আপনাদের পয়গম্বর হযরত 'ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে অতি জঘন্য মনোভাব পোষণ করে। তারা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে স্বীকার করে না। আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস কবে দেখতে পাবেন।

পূর্ব দিবসের সভায় সত্যের জয় দর্শন অত্যন্ত উৎফুল্ল চিত্তে সভাস্থল পরিত্যাগ করে মুসলমানগণ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে, আমাদের বিপদ কেটে গেছে। কিন্তু রাজদূতের মুখে সমস্ত বিবরণ অবদত হয়ে তাঁয়া প্রমান গণতে লাগলেন। কারণ, হযরত 'সা (আঃ) সম্বন্ধে খৃষ্টান মতের সাথে কুরআনের মতের ঘোর বিরোধ। তাঁরা ভাবতে লাগলেন, একথা প্রকাশ হয়ে পড়লে নাজ্জাশী এবং তাঁর সভাসদবৃন্দ আমাদের উপর বিরূপ হয়ে পড়বেন, কিন্তু যাঁরা আল্লাহ্ ও রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের জন্য মাতৃভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া পরিত্যাগ করেছেন, সত্যের জন্য যাঁजा নিজেদের ধন-সম্পদ এমনকি সব চাইতে প্রিয় বস্তু প্রাণ পর্যন্ত উৎসর্গ করে দিয়েছেন, তাঁরা কি সত্যের অপলাপ করতে পারেন? আশ্রয়দাতা খৃষ্টান রাজার ধর্মমতের বিরুদ্ধে আশ্রয়প্রার্থী নিরীহ প্রবাসীদের প্রতিবাদ, এ-যে কত বড় সঙ্কট। তার পরিণাম যে, কি ভয়াবহ। এই হাদীসের বর্ণনাকারিণী উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন: "আমরা আর কখনও এমন বিপদে পড়ি নি" কিন্তু তাঁরা ছিলেন সত্যিকার মুসলমান, তাঁদের অন্তরে ছলনা ও কপটতার স্থান ছিল না; তওহীদের বলে তাঁদের বীর হৃদয় এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, এক আল্লাহ ব্যতীত দুনিয়ার কোন শক্তিকেই তাঁরা ভয় করত না।

মহানবী সাঃ এর জীবনী
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী। পর্ব-১৪

মুসলমানগণ সমবেতভাবে বাজ-দরবারে উপস্থিত হলেন। রাজা নাজ্জাশী তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা হযরত 'ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে কি মত পোষণ কর? বীর কেশরী হযরত জা'ফর (রাঃ) নির্ভীকচিত্তে দণ্ডায়মান হয়ে উত্তর করলেন, হে সম্রাট, আমাদের পয়গম্বর (আঃ) আমাদেরকে হযরত 'ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে যা শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা তাই বিশ্বাস করি। তিনি কখনও মিথ্যা বলেন না। তিনি বলেছেন-

"তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর প্রেরিত মহাপুরুষ এবং তাঁর কালিমা, কুমারী সতী-সাথী হযরত মরইয়মের গর্তে তাঁকে আবির্ভূত করেছেন।"

তা শুনে নাজ্জাশী উৎফুল্লচিত্তে মৃত্তিকা হতে এক গাছা সৃদ্ধ কুটা কুড়ায়ে হাতে নিয়ে বললেনঃ হযরত 'ঈসা (আঃ) সমজে আমাদের এবং তোমাদের ধর্মমতে আমার হস্তস্থিত এই তৃণবৎ পার্থক্যও নেই। তোমরা যা বলেছ হয়রত 'ঈসা (আঃ) তদপেক্ষা বেশী আর কিছুই নন। নাজ্জাশীর এই উক্তি শ্রবণ করে সভাসদ পাদরীগণ অতান্ত উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং বাগে গড়গড় করতে লাগল। কিন্তু নাজ্জাশী ধমক দিয়ে তাদেরকে থামায়ে দিলেন। তৎপর তিনি। কুরায়শ প্রতিনিধিদেরকে কঠোর স্বরে বললেন: "তোমরা চলে যাও। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমস্ত উপঢৌকন ও তাদেরকে ফিরায়ে দিলেন। এইরূপে। কুরায়শ প্রতিনিধি দলের শেষ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল এবং তারা সর্বপ্রকার বঞ্চিত হয়ে হতাশ মনে আবিসিনিয়া পরিত্যাগ করতে বাধ্য হল।

 নাজ্জাশীর ইসলাম গ্রহণ 

Negus' শব্দের 'আরবী রূপান্তরই হল নাজ্জাশী, হাবশী ভাষায় নাজ্জাশী অর্থ রাজা। তা হল হাবশা রাজ্যের উপানি তাঁর নাম ছিল আহিমা ইবন আল-আবজর। তিনি হযরত জা'ফরের মুখে পবিত্র কুরআন শুনে এই বলে ইসলাম গ্রহণ করেন, "কুরআনে হযরত 'ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে যা বর্ণিত হয়েছে তাই সত্য, যদিও খৃষ্টান 'আলিমগণ একথা সমর্থন করতে সম্মত হবেন না। হে মুসলমানগণ, তোমাদের প্রতি এবং তোমাদের পয়গম্বরের প্রতি সহস্র সহস্র ধন্যবাদ। বাস্তবিক মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) সেই পয়গম্বর, যাঁর কথা আমি ইঞ্জীলে পাঠ করেছি। আল্লাহর কসম, যদি আমার উপর রাজা-শাসনভার অর্পিত না থাকত, তবে আমি তোমাদের সঙ্গে আখিরী যমানার পয়গম্বরের খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁর পাদুকা মুবারক মাথায় রেখে আমার জীবনকে ধন্য করতাম এবং নিজ হাতে পাত্র নিয়ে তাঁকে অযু করাতাম। তাঁর পদ সেবাই একমাত্র মুক্তির পথ।"

মুহাজির মুসলমানগণ স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে নাজ্জাশী (রাঃ) তাঁদের হাতে রাসূল (সাঃ)-এর নিকট যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন, তাতে তাঁর মুসলমান হওয়ার কথা সুষ্পষ্টরূপে প্রতিপন্ন হয়। রাসূল (সাঃ) জীবিত থাকা কালেই নাজ্জাশী (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে রাসূল (সাঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) নিয়ে জানাযাগাহে গিয়ে তাঁর জানাযার নামায পড়েন এবং তাঁর জন্য দু'আ করেন।

সত্যের সেবক, কর্মবীরের জন্য শত্রুতা এবং প্রতিবন্ধকতাই যে সফলতা ও কৃতকার্যতার কারণ হয়, সংকল্পে আফি থাকলে প্রতিদ্বন্দিতা এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে সে চরম উন্নতির মুখ দেখতে পায় দুঃখ বরণ ও ধৈর্য ধারণাই যে তার জন্য অভিষ্ট সিদ্ধির সর্বোত্তম উপায়, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বাহ্য দৃষ্টিতে মনে হয় যে, কুরায়শদের প্রতিবন্ধকতায় অপারগ হয়ে এবং তাদের অমানুষিক অত্যাচারের তিষ্টিতে না পেরে সত্যের সেবক সাহাবীগণ (রাঃ) দেশান্তরিত হতে বাধা হন। বস্তুতঃ তাই ছিল বিদেশে ইসলাম প্রচারের প্রথম 'মিশন'। কুরায়শদের প্রতিনিধি প্রেরণই ছিল প্রবাসী মুসলমানদের জন্য সবচাইতে বড় বিপদ। প্রকৃতপক্ষে এটা হাবশা রাজ নাজ্জাশীর ইসলাম গ্রহণের প্রধান কারণ হয়। সুতরাং সত্যের সেবকের জন্য সর্বাবস্থায়ই নির্ভীক, অটল ও অবিচলিত থাকা কর্তব্য।

যখন প্রতিনিধিদল অকৃতকার্য হয়ে প্রত্যাবর্তন করে এবং হাবশারাজ নাজ্জাশী ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন অকস্মাৎ অঘটন ঘটল। হঠাৎ এক দল শত্রু এসে নাজ্জাশীব রাজ্য আক্রমণ করল। তাতে নাজ্জাশীর অদূরদর্শী খৃষ্টান প্রজাবর্গ বলতে লাগল, অলক্ষুণে মুসলমানদের কারণেই বোধ হয় আমাদের উপর এ বিপদ আপতিত হয়েছে। পক্ষান্তরে জয়ং মুসলমানগণও নিজেদের হিতাকাঙ্ক্ষী আশ্রয়দাতা নাজ্জাশীর বিপদে মর্মাহত হয়ে পড়লেন।

স্বয়ং নাজ্জাশী রণাঙ্গনে আগমন করলেন। প্রবাসী সাহাবীগণ (রাঃ) সারা রাত্রি জাগ্রত থেকে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে নাজ্জাশীর জন্য দু'আ করতে লাগলেন এবং যুদ্ধের সংবাদ সরবরাহ করার জন্য তাদের মধ্য হতে একজনকে রণাঙ্গনে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। হযরত যুবায়র (রাঃ) যদিও তাঁদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কনিষ্ঠ ছিলেন। তথাপি তিনিই এই কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আবশ্যকবোধে তাঁরাও নাজ্জাশীর সাহায্যার্থ যুদ্ধে যোগদান করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা করেছিলেন। হযরত যুবায়র (রাঃ) মশকের সাহায্যে নীল নদ অতিক্রম করে রণাঙ্গনে উপস্থিত হলেন। কয়েক দিন গরেই তিনি প্রত্যাবর্তন করে সুসংবাদ জানালেন যে, আল্লাহর কৃপায় হযরত নাজ্জাশী এবং তাঁর সৈন্যগণ যুদ্ধে জয়লাভবরেছেন। এ সংবাদে দেশময় আনন্দ কোলাহল গড়ে গেল এবং হাবশীগণ মুসলমানদেরকে অতি সম্মানের চোখে দেখতে লাগল।

 ঈমানের শক্তি 

পাঠক। ঈমানের কত বড় শক্তি, তা একবার চিন্তা করে দেখুন তাওহীদ-সুরা পান করে এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের। শিক্ষা গ্রহণ করে এই নওমুসলিমগণ যে কি অজেয় শক্তি লাভ করেছিলেন, তা একবার ভেবে দেখুন। যে কয়জন নিঃস্ব। মুসলমান রাসুলের বিচ্ছেদ যাতনা সহ্য করতে অক্ষম হওয়ায় মক্কায় অবস্থান করতেছিলেন, দুর্ধর্ষ অগণিত কুরায়শ বাহিনী নিজেদের সর্বপ্রকার শক্তি ব্যয় করে এক মুহূর্তের জন্যও তাঁদেরকে বশে আনতে পারে না। পক্ষান্তরে, পরবর্তী সময়ে। কুরায়শগণই পরাজয় স্বীকার করে তাঁদের মতে আসতে এবং তাদের পদতলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

আর যাঁরা বাড়ী-ঘর ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া ত্যাগ করে রাসুলের নির্দেশানুযায়ী ধর্ম কর্ম পালনার্থ প্রবাসী জীবন যাপন অবলম্বন করেছিলেন তাঁরা এক মুহূর্তের জন্যও কারও নিকট মাথা নত করেন নি। বিদেশে, বিজাতি, বিধর্মী, শত্রুদের দুরভিসন্ধি, রাজ দরবারের অমাত্যবর্গের ষড়যন্ত্র, এমনকি স্বয়ং বাজ-শক্তিকেও তাঁরা ভয় করেন নি। নিঃসঙ্কোচে সত্য প্রচার করে সুদূর আফ্রিকা মহাদেশে ইসলামের বিজয় পতাকা উড়ায়ে কৃতিত্ব লাভ করেছেন।

মুসলমান, এটাই তোমার জাতীয় ইতিহাস। এটাই তোমার অতীতের গৌরবময় উজ্জ্বল আর্দশ। তুমি আজ এটা সম্পূর্ণরূপে ভুলে বসেছ। তাই আজ তুমি জগতের চোখে অতি হেয়, অতি ঘৃণিত। তোমার বল নেই, শক্তি নেই, সাহস নেই: তুমি ভীরু ও কাপুরুষ। অতি সামান্য বস্তুর জন্য কখনও বা তোমাকে ওয়াশিংটনের দ্বারে ধন্না দিতে হয়, কখনও বা লন্ডনের আস্তানাকে কুর্ণিশ করতে হয়। আবার কখনও বা অন্য কারও শরনাপন্ন হতে হয়। আল্লাহর শিক্ষা এবং তাঁর রাসূলের আদর্শকে ভুলেই আজ তুমি হেয় ও বিপন্ন হয়ে পড়েছ।

হে মুসমান। ওয়াশিংটন, লন্ডন কিংবা মস্কোও তোমার কিবলা নয় এবং আল্লাহর শত্রু কম্যুনিষ্ট নাস্তিকগণ কিংবা সাম্রাজবাদী খৃষ্টানগণও তোমার আর্দশ নয়। মক্কার পবিত্র কা'বা হল তোমার কিবলা, আর আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর ভক্ত সাহাবীগণ (রাঃ) হলেন তোমার আদর্শ। এ কথার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর, বর্তমানকে অতীতের সাথে মিলায়ে দাও, তোমার ভবিষ্যত আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। নিশ্চিতরূপে বিশ্বাস করও, এটা ছাড়া তোমার উত্থানের এবং মুক্তির আর অন্য কোন উপায় নেই।

যাঁরা তোমার ধর্মের, তোমার রাসূল (সাঃ)-এর কুৎসা বর্ণনা এবং তোমার জাতীয় ইতিহাসের গ্লানি রটনা করার উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন ওয়াকফ করে দিয়েছেন, তাঁরা একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তোমার জাতীয় আদর্শের মহত্বে অভিভূত হয়ে কি বলতেছেন শোন-

The part they acted was of deep importance in the history of Islam. It convinced the Quraish of the sincerity and resolution of the converts and proved their readiness to undergo any loss and any hardship rather than abjure the faith of Mahomet. A bright example of self-denial was exhibited to the whole body of believers who were led to rigard peril and exile in the cause of god as a privilege and distinction"

"তারা (নও মুসলিমগণ) যে সমস্ত কাজ সম্পাদন করেছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সমস্ত কাজ দেখে কুরায়শগণ তাঁদের আন্তরিকতা এবং তাঁদের সংকল্পের দৃঢ়তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁরা সর্ববিধ ক্ষতি ও কষ্ট সহ্য করতে পারতেন। কিন্তু মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্মে আস্থাহীন হতে পারতেন না। তা দ্বারা 'আল্লাহর কাছে' আত্মোৎসর্গ করার এক উজ্জ্বল আদর্শ মুসলমান সমাজের সামনে স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁরা একথা বিশ্বাস করতে প্রবুদ্ধ হয়েছিলেন যে, 'আল্লাহর কাজে' সর্ববিধ ধ্বংস এবং বিপদকে বরণ করে নেওয়া একটা বিশেষত্ব ও গৌরবজনক কাজ।"

 নবুওয়তের ষষ্ঠ বৎসর 

প্রতিশোধ গ্রহণের উন্মত্ততা: কুরায়শ প্রতিনিধিগণ যার পর নাই অপমানিত হয়ে হাবশা হতে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করল। তাদের নিকট অকৃতকার্যতা ও ব্যর্থতার নিদারুণ কাহিনী শুনে কুরায়শ সরদারদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। ক্ষোভে, ঘৃণায় ও ক্রোধে তারা আত্মহারা হয়ে উঠল। উপায় কি? কি করা যায়? ভীষণ হতে ভীষণতম অত্যাচারেও তাঁরা দমতেছে না। আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা, সমস্ত ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। দেশে মায়া নেই, আত্মীয়-স্বজনের দরদ নেই, এমনকি প্রাণের মায়াও নেই। একমাত্র আল্লাহ ও রাসূল এবং সত্য ও ধর্ম ব্যতীত আর কোন কিছুর পরওয়াই তাঁরা করেন না। এখন কি করা যায়? প্রতিকারের উপায় কি? আর বিলম্ব করা চলে না। এই মুহূর্তেই তাঁদেরকে পরাভূত এবং তাঁদের এই নূতন ধর্মকে সমূলে বিনষ্ট করার কার্যকর উপায় অবলম্বন করতে হবে।

তাদের এ উত্তেজনা ও ক্ষিপ্রতা অবলোকন করে আল্লাহ ও রাসূলের প্রেমিক সাহাবীগণ কঠোরতম বিপদের আশঙ্কা করতে লাগলেন। প্রতি মুহূর্তেই তাঁরা নূতন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে লাগলেন। কঠোরতম পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিকতর প্রিয়পাত্র হতে পারব, অন্যথায় চিরতরে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ব, এই আশা ও আশঙ্কা বিপরীতমুখী দুটি প্রবল প্রবাহের আশ্চর্য সমাবেশে তাঁদের অন্তর আন্দোলিত হতে লাগল। এই আশা-আশঙ্কা এবং উৎফুল্ল-উদ্বেগের ভিতর দিয়ে আল্লাহর মঙ্গল-হস্ত যে লোক-চক্ষুর অন্তরালে কি করতছেন, তা তাঁরা কিছুই জানতে পারলেন না। কুরায়শ দলপতিগণ মনে করল শুধু ভক্তগণের উপর অত্যাচার চালায়ে তাঁদেরকে নিরস্ত করা যাবে না, বরং এই অশান্তির মূলকেন্দ্র হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে ও শায়েস্তা করতে হবে। সুতরাং রাসূল (সাঃ)-এর উপর তাঁদের সমস্ত ক্ষোভও ক্রোধ কেন্দ্রীভূত হল।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url